ফেসবুক ও এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের ক্যারিয়ার সম্পর্কে অজানা তথ্য: - জানতে চাই, জানাতে চাই || Want to know, want to inform

ফেসবুক ও এর প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গের ক্যারিয়ার সম্পর্কে অজানা তথ্য:



মার্ক জাকারবার্গ, মার্ক জুকারবার্গ বা মার্ক যুকারবার্গ (ইংরেজি ভাষায়: Mark Elliot Zuckerberg; জন্ম: ১৪ মে, ১৯৮৪) একজন আমেরিকান কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভেলপার। তার পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জাকারবার্গ। যার আসল পরিচিতি হল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেইসবুক

প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে। তিনি বর্তমানে ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট। জাকারবার্গ এবং তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে ২০০৪ সালে এটিকে একটি ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন যখন তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই জাকারবার্গ টাইম ম্যাগাজিনের দৃষ্টিতে বছরের সেরা ব্যক্তিত্বরূপে নির্বাচিত হয়েছেন।

১৯৮৪ সালে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন এলাকাতে মনোচিকিৎসক ক্যারেন ও দন্তচিকিত্‍সক এডওয়ার্ড জাকারবার্গের ঘরে জন্ম নেন মার্ক জাকারবার্গ। জাকারবার্গের তিন বোন রয়েছে, র‍্যান্ডি, ডোনা এবং এরিএল। জাকারবার্গ একজন ইহুদী হিসেবে বেড়ে উঠেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি নিজেকে একজন নাস্তিক হিসেবেই বর্ণনা করেন
আর্ডসেলি হাই স্কুলে জাকারবার্গ গ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি ফিলিপস এক্সটার একাডেমীতে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি বিজ্ঞান এবং ক্লাসিক্যাল শিক্ষায় পুরস্কৃত হন। তিনি অসিক্রীড়া তারকা ছিলেন এবং অসিক্রীড়া দলের অধিনায়ক ছিলেন। কলেজে তিনি মহাকাব্যিক কবিতার লাইন থেকে আবৃত্তি করার জন্য পরিচিত ছিলেন।

মার্কের আবিষ্কার ও কর্মজীবনঃ 

মার্ক জুকারবার্গ হচ্ছেন একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। মার্ক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশের পূর্বেই কম্পিউটার ব্যবহার করে সফটওয়্যার তৈরি করা শুরু করেন। তার পিতা তাকে ১৯৯০ সালের দিকে বেসিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে শিক্ষা দেন। তার পিতা এডওয়ার্ড জুকারবার্গ তার পুত্রের শেখার জন্য সর্বদা উৎসাহ জুগিয়েছেন এবং এমনকি তার ছেলেকে ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা দিতে সফটওয়্যার ডেভেলপার ডেভিড নিউম্যানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকাকালিন মার্ক কম্পিউটার প্রোগ্রামিংএর একটি স্নাতক কোর্সে ভর্তি হন এবং একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম তৈরি করেন যার নাম দেন ZuckNet। এই ZuckNet ব্যবহার করে মার্ক তার বাসার কম্পিউটারের সাথে তার বাবার ডেন্টাল অফিসের কম্পিউটারগুলোকে যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন।  তরুণ জুকারবার্গ Synapse Media Player নামক একটি মিউজিক প্লেয়ার তৈরি করেন যেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর শোনার অভ্যাস শিখতে শুরু করে। মাইক্রোসফট এবং Aol উভয় কোম্পানিই ঐ Synapse সফটওয়্যারটি কিনতে চায় এবং মার্ককে তাদের সাথে কাজ করতে বলে, কিন্তু মার্ক তাদের সাথে না গিয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যোগ দেয়। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন CourseMatch নামক একটি প্রোগ্রাম লেখেন যা ব্যবহারকারীদের অন্যান্য ছাত্রদের পছন্দের উপর ভিত্তি করে বর্গ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহনে সাহায্য করে।  হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন মার্ক একটি ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুক এর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজেকে বিশ্বের দরবারে  প্রতিষ্ঠিত করেন।

দ্য ফেসবুক ডট কম
২০০৩ সালের দিকে ফেসম্যাশ তৈরি করে সমালোচিত হলেও এর সাড়া কিন্তু ভালো ছিল। বন্ধুদের নিয়ে তাই নতুন পরিকল্পনা শুরু করলেন মার্ক। ২০০৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি হার্ভার্ডে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট 'দ্য ফেসবুক ডট কম', যা 'ফেসম্যাশ ডট কম'-এর পরিবর্তিত রূপ। প্রথম দিকে এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নতুন নতুন বন্ধু অ্যাড করা, মেসেজ পাঠানো এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাবলি আপডেট করা ও তথ্য আদান-প্রদান করতে পারত। সেই সঙ্গে একজন ব্যবহারকারী শহর, কর্মস্থল, বিদ্যালয় এবং অঞ্চলভিত্তিক নেটওয়ার্কেও যুক্ত হতে পারত। মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে তার রুমমেট এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ড সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিৎস এবং ক্রিস হিউজেসের যৌথ প্রচেষ্টায় ফেসবুক নির্মাণ করেন। ওয়েবসাইটটির সদস্য প্রাথমিকভাবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পরে তা বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লিগ ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। আরও পরে এটি সব বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, হাইস্কুল এবং ১৩ বছর বা ততোধিক বয়সীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
শুরুতেই বিতর্ক
'দ্য ফেসবুক ডট কম' যাত্রা শুরু করার মাত্র ছয় দিনের মাথায় জুকারবার্গের সহযোগী বন্ধুরা তার বিরুদ্ধে আইডিয়া চুরির অভিযোগ এনেছিলেন। তখন বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও পরে এ নিয়ে আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। পরে ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে এসে জুকারবার্গের সেই তিন বন্ধু ক্যামেরুন, টেলর ও ডিভিয়া এ নিয়ে মামলা করে বসেন। তারও অনেক পরে অবশ্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়।
২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা দ্য ফেসবুক অল্প সময়ের মধ্যেই দারুণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৪ সালের মধ্যেই মার্কিন কলেজ ও স্কুলগুলোয় দ্য ফেসবুক দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সে বছর আগস্টে জুকারবার্গ 'দ্য ফেসবুক ডট কম' নাম পাল্টে শুধু 'ফেসবুক ডট কম' রাখেন। বছর শেষে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৫ লাখ। ২০০৬ সালের প্রথম দিকে মার্কিন অফিস এবং পরে সর্বসাধারণের জন্য ফেসবুক উন্মুক্ত করা হয়। কৌশলগত কারণে মাইক্রোসফট তখন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। বছর শেষে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ২০ লাখে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কোনো দেশে ফেসবুক তখনো একটি অপরিচিত নাম। ২০০৭ সালে ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা। সে বছর ফেব্রুয়ারিতে ভার্চুয়াল গিফট চালু করেন জুকারবার্গ। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্বের বেশকিছু দেশে সর্বপ্রথম ফেসবুক ব্যবহার শুরু হয়। প্রথমে কানাডা ও ব্রিটেন এবং পরে ফ্রান্স ও স্পেন। এপ্রিলে ফেসবুক চ্যাট চালু হয়। বছরের মাঝামাঝিতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। ২০০৯ সাল থেকে জুকারবার্গের ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা শুধু বাড়তেই থাকে। বর্তমানে এই সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ কোটি!
সম্মাননা
২০১০ সালে ফেসবুকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত সাপ্তাহিকটাইম ম্যাগাজিন কর্তৃক তাদের প্রচ্ছদে ঠাঁই করে নেন৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম ম্যাগাজিন ঐ বছর তাকে পারসন অব দ্য ইয়ার হিসেবে মনোনীত করেছিল।
মার্ক জাকারবার্গের বিয়ে:

মার্ক জুকারবার্গের বিয়েটাকে বিস্ময়কর বলা যেতেই পারে। কারণ পৃথিবীর কোটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা জুকারবার্গ এমন হুট করে বিয়ে করে বসবেন কেউ ভাবেননি। মার্ক জুকারবার্গ ২০১২ সালের ১৯ মে তার প্রেমিকা প্রিসিলা চ্যানকে বিয়ে করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পালো আলতোয় জুকারবার্গের নিজ বাসভবনে বিয়ের অনুষ্ঠানটি হয়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিতরা বিয়ের কথা জানতেন না। তারা ভেবেছিলেন চ্যানের গ্র্যাজুয়েশন উদ্যাপনের জন্যই এ অনুষ্ঠান। কিন্তু এ অনুষ্ঠানেই নিজের নকশা করা রুবি পাথরের একটি আংটি কনে চ্যানকে পরিয়ে দেন জুকারবার্গ। বিয়ের নয় বছর আগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চ্যানের সঙ্গে পরিচয় হয় জুকারবার্গের। এ পরিচয় থেকেই প্রণয়। এই দীর্ঘ নয় বছরের প্রণয়ে সব সময়ই একসঙ্গে থেকেছেন তারা। এর আগে এ জুটির ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য ফাঁস করেছিলেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০১১ সালের জুনে প্রিসিলা চ্যান ও মার্ক জুকারবার্গ এনগেইজড এবং আগামী বছর তারা বিয়ে করবেন বলে জানিয়েছিলেন বিল গেটস। জুকারবার্গ ও তার বান্ধবী প্রিসিলা চ্যান অবশ্য বিয়ের আগে থেকেই এক বাড়িতে থাকতেন। তাদের ফেসবুক রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে লেখা ছিল 'ইন অ্যা রিলেশনশিপ'। বিয়ের পরে তা পাল্টে লেখা হয় 'ম্যারেড'।

মজার তথ্যে ফেসবুক গুরু
* ফেসবুকের প্রকৃত রং নীল। এর কারণটা বেশ মজার। কারণ হলো মার্ক জুকারবার্গ বর্ণান্ধ। তিনি যে রংটা সবচেয়ে ভালো দেখেন সেটা হলো নীল।
* মার্ক জুকারবার্গ বন্ধুদের কাছে জুক নামে পরিচিত এবং তার মা তাকে প্রিন্স লি ডাকেন।
* মার্ক জুকারবার্গের একটা কুকুর আছে, যার নাম বিস্ট এবং এ কুকুরের নামে একটা পেজ আছে।
* মার্ক জুকারবার্গকে নিয়ে 'দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক' নামে একটা মুভি হয়েছিল। মার্ক বলেছিলেন যে, এ মুভির সঙ্গে তার রিয়েল জীবনের একমাত্র যে জিনিসটা মেলে তা হলো মুভির নায়কের ড্রেস (টি-শার্ট )।
* মার্ক জুকারবার্গের সঙ্গে তার গার্লফ্রেন্ড প্রিসিলা চ্যানের প্রথম দেখা হয়েছিল হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একটা টয়লেটের লাইনে, ২০০৩ সালে।
* বিয়ের সময় পাত্রী প্রিসিলার হাতের আংটির ডিজাইন করেছিলেন মার্ক জুকারবার্গ নিজে।
* মার্ক জুকারবার্গের বিয়েতে যেসব লোক এসেছিলেন তারা জানতেন না যে তারা বিয়েতে এসেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত না বলা হয়েছে। সবাই ভেবেছিলেন প্রিসিলার গ্র্যাজুয়েশান পার্টি এটা।
* মার্ক জুকারবার্গ চাইনিজ ভাষা শিখেছিলেন ২০১০ সালে, যাতে তিনি তার শ্বশুরবাড়ির লোকদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
* গুগলের গুগল প্লাসে মার্ক জুকারবার্গের সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার রয়েছে, যা অন্য কারও নেই।
* মার্ক জুকারবার্গের টুইটার অ্যাকাউন্টের ইউজার নেম হচ্ছে ভরহশফ.
* ইয়াহু ফেসবুক কিনতে চেয়েছিল ১ বিলিয়ন ডলারে। মার্ক জুকারবার্গ সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন।
* মার্ক জুকারবার্গ গ্রিন ডে, টেইলর সুইফট, শাকিরার গান শুনতে পছন্দ করেন।
* কোনো ফেসবুক ইউজার মার্ক জুকারবার্গের ফেসবুক প্রোফাইল ব্লক করতে পারবেন না।
* মার্ক জুকারবার্গ পারতপক্ষে স্যুট কিংবা ফরমাল ড্রেস পরেন না।

রিসর্স-১:     রিসর্স-২:

        মার্ক জুকারবার্গ সম্পর্কে আরও জানুন এখান থেকে।

সম্মানিত পাঠক, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু দিয়ে সাজানো আমার নিজের সাইট ও চ্যানেলগুলো একবার ঘুরে আসার আমন্ত্রণ রইলো:

World Hot Events ;  Learn and Earn ; Educare Channel ; Youtube Educare Channel ; Facebook


কোন মন্তব্য নেই

Copy Right: abrajbangla.blogspot.com. Blogger দ্বারা পরিচালিত.